বাজেটে লাস্ট মাইল ব্রডব্যান্ড নিয়ে নির্দেশনা না থাকায় ডিজিটাল বৈষম্য বাড়বে : বিআইজেএফ সভাপতি

১১ জুন, ২০২০ ২৩:২৫  
লাস্ট মাইল ব্রডব্যান্ড নিয়ে বাজেটে কোনো নির্দেশনা না থাকায় আগামী ডিজিটাল বৈষম্য আরো বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) সভাপতি মোঃ মোজাহেদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ০২০-২০২১ বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, লাস্ট মাইল ব্রডব্যান্ড নিয়ে বাজেটে নির্দেশনা নেই।এই করনাকালিন সময়ে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করার জন্য প্রথমেই দরকার দ্রুতগতির ইন্টারনেট। যা শহরাঞ্চলে থাকলেও গ্রামাঞ্চলে নেই। শহরাঞ্চলে ৫০০-৬০০ টাকার বিনিময়ে ব্রডব্যান্ড লাইনের কানেকশন নিয়ে আনলিমিটেড টাইম এবং আনলিমিটেড ডাটা অ্যাক্সেস করা যায়। তাই শহরাঞ্চলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনলাইন ক্লাসে সংযুক্ত হওয়া খুবই সহজ যদি থাকে তার ল্যাপটপ বা স্মার্ট ডিভাইস। গ্রাম কিংবা দ্বীপাঞ্চলে এখনো ব্রডব্যান্ড কানেকশন নেই। ফলে শিক্ষার্থীদেরকে মোবাইল ডাটার উপর নির্ভর করতে হয় যা খুবই ব্যয়বহুল। অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য এসব শিক্ষার্থীরা মোবাইল ডাটা (GB) ক্রয় করে যা খুবই অল্পসময়ের জন্য বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়। মূলতঃ একটি এক ঘণ্টার ভিডিও ক্লাসের জন্য প্রায় ৭০০-১০০০ মেগাবাইট ডাটা প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে, অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছলেও সত্যিকার অর্থে ইন্টারনেটের সকল সুযোগ সুবিধা এখনো গ্রামবাসীরা ভোগ করতে পারছে না। ইন্টারনেট সেবার মানে গ্রাম ও শহরের মধ্যে চরম বৈষম্য বিদ্যমান। বিআইজেএফ সভাপতি বলেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ১ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৮.৭ শতাংশ বেশি। তথ্য প্রযুক্তির এই বাজেটকে দেশের আইটি গ্র্যাজুয়েটদের বিশ্বমানের আইটি প্রফেশনাল হিসেবে তৈরি করতে ব্যাবহার করলে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তবে আইসিটি ইন এডুকেশন লিটারেসি, ট্রাবল শুটিং অ্যান্ড মেইনটেনেন্স বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি বলেন, ২০২০ সালে এসে ‘বেসিক আইটি ট্রেনিং’ একাধারে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়,অধিদপ্তর করাচ্ছে একই জেলার একই শিক্ষার্থীদের যার ফলে সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে।